You are here
Home > জাতীয় > গৃহকর্মী নির্যাতন হলে বাসায় অভিযান: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

গৃহকর্মী নির্যাতন হলে বাসায় অভিযান: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

Fallback Image

বাসা-বাড়িতে নিয়োজিত গৃহকর্মীর উপর নির্যাতনের খবর পেলে সেখানে অভিযান চালিয়ে গৃহকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার গৃহকর্মী বিষয়ক কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের দ্বিতীয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অমানবিকভাবে অনেক গৃহকর্তা সামান্য ভুলত্রুটির জন্য এমনভাবে (গৃহকর্মীদের) নির্যাতন করছে, যা টলারেট করা সম্ভব না।

“সরকার কোনো ক্রমেই এসব অন্যায়-অমানবিক আচরণ সহ্য করবে না। যার জন্য মনিটরিং সেল থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা আমরা জানতে পারি সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গায় নিজেরাই অভিযান চালাব। তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইন অনুযায়ী যা যা করার আমরা তা করব।”

গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি- ২০১৫ বাস্তবায়নে গত ২৬ জুলাই ‘গৃহকর্মী বিষয়ক কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল’ গঠন করে সরকার। ২২ সদস্যের এই সেলের চেয়ারম্যান শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতির বিষয়ে সবাইকে অবগত করতে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেলের শাখা কমিটি করা হবে বলে জানান চুন্নু।

কয়েক দিন আগে গাজীপুরে নয় বছরের এক মেয়েকে গরম ছ্যাঁকা দেওয়ার তথ্য জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন, এ রকম আরও ঘটনা ঘটছে।

“অপরাধ (গৃহকর্মীদের নির্যাতন) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে অনেক আইন আছে, আইনগুলো প্রয়োগ করা গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।”

শ্রম আইন অনুযায়ী ১২ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজে লাগানো নিষিদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, “তবে ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে কাউকে গৃহকর্মী নিয়োগ করতে হলে নীতিমালা অনুযায়ী কর্মঘণ্টা নির্ধারণ থাকবে, পড়ালেখার সুযোগ দিতে হবে, সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

“এসব শর্তসাপেক্ষে গৃহকর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে। তা না করা হলে অভিযোগ পেলে সেলের পক্ষ থেকে গৃহকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

গৃহকর্মী বা শিশুশ্রম এখন কমার প্রবণতায় রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ সালে শিশুশ্রমিক ছিল ২৫ লাখ, ২০১৩ সালে ১৭ লাখে নেমেছে।

“দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হওয়াতে শিশুশ্রম কমে এসেছে। শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়ায় শিশুশ্রম কমে এলেও এখনও আছে। আমাদের টার্গেট ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম যে কোনোভাবে নিরসন করব।”

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ দেওয়ায় কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তর ৪৬টি মামলা করেছে বলেও জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

“যেসব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে আত্মনির্ভর করা যায় সে বিষয়ে একটি প্রকল্প নিচ্ছি। ৬০ থেকে ৮০ হাজার শিশুকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্য আছে।”

ফরমাল সেক্টরে শিশুরা কাজে নিয়োজিত নেই দাবি করে চুন্নু বলেন, “শিশুরা কাজ করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু সংখ্যায় কমে এসেছে। ইনফরমাল সেক্টরে শিশুরা নিয়োজিত আছে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে ১৭ লাখের মত শিশু শ্রমে নিয়োজিত আছে বলেও জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

Similar Articles

Leave a Reply

Top