You are here
Home > জেলার খবর > রংপুর > পার্বতীপুরে ঘন কুয়াশা ও শীতে বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব

পার্বতীপুরে ঘন কুয়াশা ও শীতে বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব

পার্বতীপুরে ঘন কুয়াশা ও শীতে বিভিন্ন রোগের প্রাদূভাব বাড়ছে। শীতে কাতর হতদরিদ্র ও অভাবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের সংগ্রহে কোন শীতবস্ত্র নেই। তবে তারা শীতবস্ত্রের চাহিদা দিয়ে জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন দফতরকে জানিয়েছে।

তবে কি পরিমান শীতবস্ত্রের চাহিদা দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেনি। এদিকে শীত নিবারনের জন্য সাধারন মানুষ একখন্ড শীতবস্ত্র সংগ্রহের জন্য শহরের রেলওয়ে বাজার কাপড় মার্কেটে ভিড় করছে। কিন্ত শীতবস্ত্রের বাজার চড়া হওয়ায় কাপড় কিনে গায়ে দেয়া সবার ভাগ্যে জুটছে না। সন্ধ্যার পর থেকে এলাকা কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে যায়। যারা নতুন করে শীতবস্ত্র কিনতে পারছে না তারা পুরাতন শীতবস্ত্র দিয়ে দিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। তাতেও কাজ হচ্ছে না। শীতের তীব্রতায় অতিষ্ট হয়ে অনেকে দিনেও খড়কুটে জ্বালিয়ে খানিকটা শরীর গরম করছে। হতদরিদ্ররা সরকারী ত্রানের শীতবস্ত্র পেতে জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে ধরনা দিচ্ছে। কিন্ত সরকারী পর্যায়ে শীতবস্ত্র না মেলায় তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাগের ছাতারমত গজিয়ে ওঠা শতাধিক এনজিও সেবামুলক সংগঠন থাকা সত্বেও এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র বিতরনে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পুরাতন কাপড় মার্কেটের দোকানীরা শীতেবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে। লোকজনও শীতের কাপড় সংগ্রহে ঢু মাড়ছে মার্কেটে। তবে দাম চড়া হওয়ায় বিক্রি চলছে ধীর গতিতে। গত বছর যে কাপড় বিক্রি হয়েছে ৭০/৮০ টাকায়, এবার তার দাম উঠেছে ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা। অভাবী ও সীমিত আয়ের লোক দোকানে ভীড় করলেও কিনছে সামান্য। সবচে’ দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে দিনমজুর শ্রেনীর লোকেরা। কনকনে শীতে অনেকে বাড়ী থেকে বের হতে না পেরে কোন কাজও করতে পারছে না। যার জন্য তাদের অতিকেষ্ট দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে শীতজনিত রোগের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশির ভাগ শিকার হচ্ছে দরিদ্র ও মজুর শ্রেনীর মানুষ বলে জানা যায়। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে ঘরে। হাসপাতাল ও ক্লিনিককে এসব আক্রান্তদের মধ্যে বেশী ভাগই শিশু।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নবিউর রহমান, শীত নিবারনের পর্যাপ্ত কাপড়ের অভাব এর অন্যতম কারন বলে জানান। পার্বতীপুর ৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০/৬০ জন রোগী আসছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি বলে জানান তিনি।

Similar Articles

Leave a Reply

Top