You are here
Home > ইচ্ছেডানা > আপনার সন্তান বেশি টিভি দেখছে : এটা বদভ্যাসে পরিণত

আপনার সন্তান বেশি টিভি দেখছে : এটা বদভ্যাসে পরিণত

Fallback Image

সারাদিনের ব্যস্ততার পরে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ টিভির চ্যানেল পরিবর্তন করতে অথবা পছন্দের নিউজ চ্যানেল কিংবা পছন্দের গানের শো দেখতে আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই ভালো লাগে। ভাবছেন হয়তো, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? টিভি তো সবাই দেখে। সমস্যা কিন্তু টিভি দেখা নিয়ে নয়, সমস্যা অতিরিক্ত টিভি দেখা নিয়ে। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানও এই বদভ্যাসটি শিখে নিচ্ছে।

আধুনিক সভ্যতার বদৌলতে বিশ্বটা হাতের মুঠোয় কয়েকটি বোতামে আবদ্ধ হয়েছে ঠিকই আবার জীবনকে হুমকির মুখোমুখি করেছে অনেক ক্ষেত্রেই। যেমন অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখাটা বাচ্চার জন্য মোটেও ভালো নয়, কেননা এতে করে বাচ্চার মধ্যে অভ্যাস থেকে শুরু করে রুচিবোধও নষ্ট হয়ে যায়। সারাদিনের ব্যস্ততার পরে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ টিভির চ্যানেল পরিবর্তন করতে অথবা পছন্দের নিউজ চ্যানেলে সারাদিন কোথায় কী হয়েছে এক ঝলকে দেখে নেওয়া কিংবা পছন্দের গানের শো দেখতে আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই ভালো লাগে। ভাবছেন হয়তো, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? টিভি তো সবাই দেখে। সমস্যা কিন্তু টিভি দেখা নিয়ে নয়, সমস্যা অতিরিক্ত টিভি দেখা নিয়ে। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানও এই বদভ্যাসটি শিখে নিচ্ছে। যদি একটানা দেড় থেকে দুই ঘণ্টারও বেশি টিভি দেখেন, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি টেলিভিশনে অ্যাডিক্টেড হয়ে পড়েছেন। অনেক সময় দেখা যায়, মা-বাবারা টেলিভিশনকে ‘বেবি সিটার’ হিসেবে ব্যবহার করেন। বাচ্চাকে খাওয়ানোর সময় অথবা নিজেরা কাজ করার সময় যাতে বাচ্চারা তাদের বিরক্ত না করে তার জন্য বাচ্চাদের টিভি দেখতে বসিয়ে দেন। এর ফলে আস্তে আস্তে বাচ্চারা টিভিতে আসক্ত হয়ে পড়ে। এখন বেশিরভাগ বাচ্চার মধ্যেই টিভিতে বিভিন্ন রকমের কার্টুন চ্যানেল দেখার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে সেইসব কার্টুন চরিত্রের মতো নিজেদের তৈরি করার চেষ্টা করে। এই অভ্যাস ওদের জন্য খুব ক্ষতিকর। একটানা অনেকক্ষণ টিভি দেখলে চোখে ব্যথা করার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয় চোখ লাল হওয়া, ঘাড়ে ব্যথা এবং চোখের পাওয়ার বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের টিভি দেখা একেবারেই ঠিক নয়। দুই বছরের বেশি বয়সীদের দিনে দুই ঘণ্টার বেশি টিভি দেখা ঠিক নয়। যেসব শিশু বেশি টিভি দেখে তারা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার’ বা অমনোযোগিতার সমস্যায় বেশি ভোগে।

মা-বাবাদের করণীয়

শিশুদের নৈতিক বিকাশের একটা অন্যতম উপায় হলো তাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের নৈতিক বিষয়াদির খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা। শিশুটি যে প্রোগ্রামটি দেখছে, কী ভেবে দেখছে—এসব নিয়ে আলোচনা করলে, ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও যা আপনি করতে পারেন—

 শিশুদের নিরাপদ এবং ভালো যুক্তি দিয়ে নৈতিক বোধটাকে চাঙ্গা করা প্রয়োজন।

 একটি বাচ্চা রোজ ৪ ঘণ্টা টিভি দেখলে সপ্তাহে সে টিভি দেখে ২৮ ঘণ্টা। সুতরাং বিকল্প আকর্ষণীয় ব্যবস্থা করে সময়টা কমিয়ে আনা জরুরি।

 টিভি দেখা বা ভিডিও গেমস খেলার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া খুব জরুরি।

 বাবা-মায়ের অবশ্যই জানা থাকা প্রয়োজন যে, বাচ্চারা কোন প্রোগ্রামটা দেখছে। পাশাপাশি বাচ্চা যে প্রোগ্রামটি দেখছে, সেটি বাচ্চার পাশে বসে বাবা-মায়ের দেখাটাও জরুরি। তাতে আলোচনা করে অনুষ্ঠানটির শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বাচ্চাকে ভালোভাবে বুঝানো সম্ভব।

 কাজের লোকটির সাথে বসে দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা টিভি দেখছে কি না, কিংবা বাবা-মা নিজেই যখন ভয়াবহ ব্যস্ত সেই ফাঁকে বাচ্চা যা খুশি তা দেখছে কি না সেটি সম্পর্কে বাবা-মায়ের সচেতন হওয়া খুবই প্রয়োজন।

 খেয়াল রাখতে হবে টিভি যেন কিছুতেই শিশুদের একমাত্র বিনোদন না হয়।

 বই পড়া, ছবি আঁকা, গল্প শোনানো, আরও যেসব বিষয়ে বাচ্চার আগ্রহ আছে, সেগুলোর প্রতি শিশুদেরকে উত্সাহিত করা জরুরি।

 শিশুরা কী কী অনুষ্ঠান দেখবে এবং সেগুলো মানসম্মত কি না, সেটা বেছে নেওয়া অনেক জরুরি।

 যেসব অনুষ্ঠান বাচ্চাদের ক্ষতি করতে পারে বলে, ভাবছেন তা অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা নিজেরাও ভালো কোনো ছবি সংগ্রহ করে দেখতে পারেন নিজের সুবিধামতো সময়ে আবার বাচ্চাদের জন্য কিনে আনতে পারেন কোনো ক্লাসিক কার্টুনের ভিডিও।

Similar Articles

Leave a Reply

Top