You are here
Home > স্বাস্থ্য > রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয় করলে: কিডনি কর্মক্ষম বোঝা যায়

রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয় করলে: কিডনি কর্মক্ষম বোঝা যায়

Fallback Image

ক্রিয়েটিনিন এক ধরনের বর্জ্য, যেটি মাংসপেশির কোষ ভেঙে তৈরি হয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যখন ক্রিয়েটিনিন উৎপন্ন হয় তখন রক্তের সঙ্গে তা মিশে যায়। পরে রক্ত যখন কিডনির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন কিডনি এই রক্ত ছেঁকে ক্রিয়েটিনিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। তাই রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয় করলে বোঝা যায় কিডনি কতখানি কর্মক্ষম আছে। ক্রিয়েটিনিন বের করে দেওয়ার এই ক্ষমতা ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে কিডনি গঠণের একক গ্লোমেরুলাস কতখানি কাজ করতে পারছে তাও বের করা যায়। এটি গ্লোমেরুলাস ফিলট্রেশন রেট বা জিএফআর নামে পরিচিত।

কিডনি আসলে একটি ছাঁকনির মতো। নেফ্রন নামের কিডনির কোষগুলো একেকটা ছাঁকনির কাজ করে। কিডনিতে থাকে হাজার হাজার ক্ষুদ্র রক্তনালি, নেফ্রনের ভেতরেও এসব নালি বিস্তৃত থাকে। এসব রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল করার সময় কিডনি ছাঁকনির কাজটি করে। শরীরের জন্য ক্ষতিকর পদার্থগুলো এভাবেই কিডনি ছেঁকে আলাদা করে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।

প্রতি মিনিটে কিডনি যতটা রক্ত থেকে ক্রিয়েটিনিন বের করে দিতে পারে সেটাই ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এ হার ১২৫ মি.লি.। এর অর্থ প্রতি মিনিটে কিডনি ১২৫ মি.লি. রক্ত থেকে সম্পূর্ণভাবে ক্রিয়েটিনিন বের করে দিতে সমর্থ। বয়স, লিঙ্গ ও শরীরের আকৃতির ওপর নির্ভর করে এই হার।
কিডনির কার্যকারিতা নির্ণয়ের জন্য ডাক্তাররা ক্রিয়েটিনিন ও ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স টেস্ট করিয়ে থাকেন। কিডনির কার্যকারিতা যত কমবে ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স তত কমবে। কিডনির কার্যকারিতা নির্ণয়ের জন্য এই টেস্ট দুভাবে করা যায় । এক. ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব সংগ্রহ করে তাতে ক্রিয়েটিনিনের উপস্থিতি কতটা আছে তা নির্ণয় করে। দুই. শিরা থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা। এ ক্ষেত্রে রক্তে যত বেশি ক্রিয়েটিনিন থাকবে কিডনির কার্যকারিতা তত কম বলে ধরা হবে।

ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট দিয়ে কিডনির অসুখ নির্ণয় করা হয়। কিডনির কার্যকারিতা কমে যায় আকস্মিক বা অ্যাকিউট, দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক_এই দুভাবে। বারবার ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স টেস্ট করে রোগ এবং কিডনির সর্বশেষ অবস্থা বোঝা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গেও কিডনির কার্যকারিতা একটু কমে যায়।
কিডনির কার্যকারিতা ৫০ ভাগ নষ্ট হওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রেই রোগী টের পান না। কারণ বেশির ভাগ সময়ই কোনো লক্ষণ থাকে না। এ কারণে প্রত্যেকেরই মাঝেমধ্যে ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স টেস্টটি করা দরকার।
এই টেস্টটিতে সাধারণত পাঁচটি স্টেজ হিসেবে দেখানো হয়।

স্টেজ ১: ক্লিয়ারেন্স রেট ৯০ বা তার বেশি হলে কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক।
স্টেজ ২: রেট ৬০-৯০ এর মধ্যে হলে কিডনির কার্যকারিতা মৃদু ক্ষতিগ্রস্ত।
স্টেজ ৩: রেট ৩০-৫৯ এর মধ্যে হলে কিডনির কার্যকারিতা মাঝারি ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত।
স্টেজ ৪: রেট ১৫-২৯ এর মধ্যে হলে কিডনির কার্যকারিতা তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
স্টেজ ৫: রেট ১৫-এর নিচে হলে কিডনি অকার্যকর, ডায়ালিসিস প্রয়োজন।
৬০ বছরের বেশি বয়সীদের রক্তে ক্রিয়েটিনিন লেভেল অনেক সময়ই ঠিক থাকে; কিন্তু ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট কমে যায়। তা ছাড়া যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদেরও এই রেট কমতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যেই এ টেস্টটি করে কিডনির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।
বিএসএমএমইউ, ঢাকা।

Similar Articles

Leave a Reply

Top