You are here
Home > জাতীয় > বড় হয়ে ক্রিকেটার হতে চাইঃ মেঘ

বড় হয়ে ক্রিকেটার হতে চাইঃ মেঘ

দেখতে দেখতে পাঁচটি বছর পেরিয়ে গেল। দেশের বর্বরতম এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দার মেঘ যেমন আকাশে গাঢ় হয়েছে, তেমনি সময়ের স্রোতে রক্ত-মাংসে বেড়ে ওঠা সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘও পরিপক্ক হয়ে উঠছে। যে মেঘ মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে চোখের সামনে নির্মম ও নৃশংসভাবে খুন হতে দেখেছে তার বাবা-মাকে, যে মেঘ এক সময় শুধু অবুঝ মনে বলতো চোর মেরেছে আব্বু আম্মুকে, বা যে মেঘ বলতো শুধু পিস্তল নিয়ে গুণ্ডা বসেছিল ঘরে। সেই মেঘ এখন বলতে শিখেছে।

সে হয়তো জানেও না তাকে নিয়ে তার মা মেহেরুন রুনি এবং বাবা সাগর সারোয়ারের কী স্বপ্ন ছিল। তবে মা-বাবার সেই অপ্রকাশিত স্বপ্ন না জানলেও নিজের মনের মতো করে একটি বড় স্বপ্ন গড়ে তুলেছেন।

চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া মেঘের দুচোখ জুড়ে স্বপ্ন এখন বড় ক্রিকেটার হয়ে দেশের জন্য লড়ে যাওয়া। মা বাবা দুজনেই ছিলেন সাংবাদিক। যারা সবসময় অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতিকে জনসমক্ষে তুলে ধরে দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। কে জানে, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে হয়তো তাদেরও স্বপ্ন ছিল সে বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করুক, দেশের হয়ে লড়ুক। আপন খেয়ালেই হয়তো বাবা মায়ের এ স্বপ্ন নিজের মনে ধারণ করে ফেলেছে মেঘ। তার দুচোখ জুড়ে স্বপ্ন এখন কেবলই একজন ক্রিকেটার হওয়া।

শনিবার সকালে দুই মামা নওশের আলম রোমান এবং নওজেশ আলমের সঙ্গে এলেন আজিমপুরে কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরে দোয়া করতে। পড়নে কালোর মাঝে সাদা চেকের পাঞ্চাবি, মাথায় একই রঙের রাবারের টুপি। কবরের কাছে আসতেই কেমন হতবিহ্বল চেহারা ফুটে উঠলো কচি মুখটায়। একবার মায়ের কবরের পাশে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছে, কিছুক্ষণ আবার বাবার কবরের পাশে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল মেঘ।

মামাদের সঙ্গে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছুয়ে পরম মমতায় ছুয়ে আসতে দেখা গেল মা বা দুজনেরই কবরের মাটি। ফেরার পথে সাংবাদিকরা তার নানাদিকসহ জানতে চাইলেন তার স্বপ্ন কী, বড় হয়ে সে কী হতে চায়। মেঘের সাফ জবাব, ‘বড় হয়ে আমি একজন ক্রিকেটার হতে চাই।’

মামা নওজেশ আলম রোমান জানালেন, মেঘ এখন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালে( বিআইটি) চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশুনার পাশাপাশি মেঘের ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে কখনও কখনও ক্রিকেট প্রাকটিস করতে নিয়ে যান। তবে আরেকটু বড় হলে তাকে নিয়মীত অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান মেঘের মামা রোমান।

Similar Articles

Leave a Reply

Top