You are here
Home > অপরাধ > দুই কিশোেরর ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন!!!!!

দুই কিশোেরর ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন!!!!!

১৫-১৭ বছরের তিন কিশোর, তাদের মধ্যে খুন হয়ে গেল এক জন। ১৫ বছরের দেবাশিস ভৌমিক। খুনের অভিযোগ উঠল অন্য দুই বন্ধুর নামেই। পুলিশের দাবি, জেরায় দুই কিশোর কবুল করেছে, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেই খুন। খুনের আগেও একপ্রস্ত মদ্যপান। তার পর সেই মদের বোতল দিয়েই বন্ধুর মাথায় আঘাত।

কৃষ্ণনগরে বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় শনিবার রাতে দুই কিশোর গ্রেফতার হয়। রবিবার কৃষ্ণনগর জুভেনাইল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের এক দিন হোমে রাখার নির্দেশ দেন। আজ, সোমবার ফের তাদের আদালতে আনা হবে।

দেবাশিসের সঙ্গে দুই বন্ধুর মনোমালিন্যের অনেকটাই মদকে ঘিরে। জেলার পুলিশ সুপার শীষরাম ঝাঝারিয়া বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, মদের আসরে টাকাপয়সার প্রশ্ন নিয়েই খুন। আরও কিছু জড়িত কি না দেখা হচ্ছে।’

নিহত দেবাশিস ও তার দুই বন্ধু কৃষ্ণনগরেরই বাসিন্দা। ধৃত প্রথম জনের বয়স সতেরো। নবম শ্রেণিতে অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরে গত বছর লেখাপড়ায় ইতি টানে। বাবা ছেলেকে ফটোকপি ও মোবাইলের দোকান করে দেন। তার তুলনায় দেবাশিস এবং অন্য বন্ধুটির বাড়ির অবস্থা খারাপ। তারা শহরের দু’টি আলাদা স্কুলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জেনেছে, মাঝেমধ্যেই তিন জন নবদ্বীপ রোড লাগোয়া দিঘির পাড়ে মদ খেত। দিন কয়েক আগে মদ কেনার টাকা কম পড়ায় দেবাশিসের কাছে দেড়শো টাকা ধার নেয় প্রথম জন। কয়েক দিন কেটে যাওয়ার পরেও টাকা শোধ করেনি। এক দিন অন্য সকলের সামনেই দেবাশিস টাকাটা চেয়ে বসায় আঁতে লেগে যায় তার। তা ছাড়া বেশ কিছু দিন থেকে দেবাশিস তাকে তেমন ‘পাত্তা’ দিচ্ছিল না বলে চটেই ছিল সে।

দেবাশিসকে ‘চরম শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা তখনই শুরু। মোবাইলের টোপ দিতে দ্বিতীয় বন্ধুও রাজি। ১ ফেব্রুয়ারি, সরস্বতী পুজোর দিন দিঘির পাড়ের জঙ্গলে দু’জনে গর্ত খোঁড়ে। তারপর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেবাশিসকে সেখানে ডেকে নিয়ে গিয়ে তিন জনেই মদ খায়। দেবাশিসকে বেশি মদ খাইয়ে দিয়ে প্রথমে এক জন তার মাথায় মদের বোতল দিয়ে মারে। তার পর গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে সেই গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেয়। উপরে বিছিয়ে দেয় শুকনো ডালপালা।

দেবাশিস সন্ধের পরেও না ফেরায় বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। তারা জানতে পারেন, দুই বন্ধুর সঙ্গে দেবাশিসকে দেখা গিয়েছে। তখন দু’জন জানায়, তারা হেলিপ্যাডের মাঠে একসঙ্গে বসে এগরোল খেয়েছে। তারপর তারা চলে এলেও দেবাশিস থেকে গিয়েছিল। শুক্রবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে দেবাশিসের পরিবার। দুই বন্ধুর সঙ্গে ফের কথা বলার পরে সন্দেহ বাড়ে তাদের।

শুক্রবার বিকেলে পুলিশও দু’জনকে ডেকে পাঠায়। সন্দেহজনক কিছু খুঁজে না পেয়ে ছেড়েও দেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে নির্জন দিঘির পাড়ে দেবাশিসের সাইকেলটি খুঁজে পান এলাকার লোকজন। তখন ফের ওই দু’জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পরে সব কথা কবুল করে দু’জনে।

পরিবার এবং এলাকাবাসীরা হতবাক, দুই কিশোরের আপাত স্বাভাবিক আচরণ দেখে। এক জনের মা বলছেন, ‘ছেলেটা ক’দিন ধরেই একটা মোবাইলের জন্য বায়না করছিল ঠিকই। কিন্তু ও যদি কাউকে খুনই করে তা হলে কি এত স্বাভাবিক থাকতে পারে? বাড়ি ফিরে চা করে আমাদের দিল, নিজে খেল। রাতে ঘুমিয়ে পরের দিন স্কুলে গেল।’

মায়ের বিশ্বাস, তার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। দুই কিশোরের স্নায়ুর জোর দেখে অবাক পুলিশ কর্মকর্তারাও। জেলা পুলিশের এক জনের কথায়, ‘বিশ বছরের চাকরি জীবনে এমন এই প্রথম দেখছি। বয়স ওদের আঠেরোর নীচে ঠিকই। কিন্তু ওদের মদের নেশা, খুনের পরিকল্পনা, মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা দাগি অপরাধীদের হার মানায়।’

Similar Articles

Leave a Reply

Top