You are here
Home > জাতীয় > প্রায় ১৩ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে….

প্রায় ১৩ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে….

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৩ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে শিশু ক্যান্সারের ৭৫ শতাংশ নিরাময় করা সম্ভব। দেশে যে হারে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, তার মাত্র ১০ শতাংশেরও কম রোগী চিকিৎসার আওতায় আসছে। বাকি ৯০ শতাংশ ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু যথাযথ চিকিৎসার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

এমন অবস্থায় এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিশু ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকার চারটিসহ মোট ১০টি সরকারী হাসপাতালে শিশু ক্যান্সার বিভাগ চালু আছে। প্রতিবছর যে পরিমাণ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অবকাঠামো নেই।

পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসকের সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সমীক্ষায় যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা বেশ আশ্চর্যজনক। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের মাত্র ৫ শতাংশ বংশগত সূত্রে জিন মারফত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ কিন্তু জন্ম পরবর্তীকালে পারিপার্শ্বিক কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবণতা ব্লাড ক্যান্সারের, যা শতকরা ৬০ শতাংশেরও ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা (শিশু ক্যান্সারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া) ক্যান্সার ধরতেই পারছেন না। এর কারণ শিশু ক্যান্সারের আলাদা লক্ষণ, কখনও বা জ্বর, কখনও দেহে বিশেষ চিহ্ন বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ইত্যাদি আলাদা উপসর্গ থেকে ক্যান্সার দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, জিনগত ক্যান্সার ছাড়া নগরায়নের পরোক্ষ প্রভাবেই শিশুদের মধ্যে ক্যান্সারের ঘটনা বাড়ছে। ভাইরাস, দূষণ আর বিকিরণের মাত্রা বৃদ্ধি ক্যান্সারের মূল কারণ। শিশু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিক মাত্রায় শিল্পায়ন, উন্নয়ন শিশুদের শরীরে ক্যান্সার জন্ম দিচ্ছে। আমেরিকা আর কানাডায় শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ ক্যান্সার। ইউরোপে বছরে প্রায় ৭ শতাংশ শিশু ক্যান্সারে মারা যায়। এসব তথ্য থেকেও এটা পরিষ্কার যে, নগরায়ন আর শিশু ক্যান্সারের বৃদ্ধির মধ্যে সমানুপাতিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

Similar Articles

Leave a Reply

Top