You are here
Home > বিনোদন > আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস শাশুড়ির বিপক্ষে: তোলপাড়!

আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস শাশুড়ির বিপক্ষে: তোলপাড়!

খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ ছবি নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তোলায় এ নিয়ে সিনেমাপাড়া ব্যাপক তোলপাড়া চলছে।
এরই মধ্যে শাশুড়ি মেহের আফরোজ শাওনের বিপক্ষে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন আসিফ নজরুল। ফলে এ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘কেন তথ্য মন্ত্রনালয়? ডুব ছবিতে আপত্তি জানালে জানাতে পারতো সেন্সর বোর্ড। তারা তা জানায়নি। এটি আপাতত আটকে দিয়েছে তথ্য মন্ত্রনালয়। এতে যারা অবাক হচ্ছেন তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি এদেশে কিন্তু এরকমই হচ্ছে অনেক দিন ধরে। এদেশে জাতীয় ক্রিকেট দল ঠিক করে দেন ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পাপন (করার কথা নির্বাচনী বোর্ডের), ভারতের সাথে পানি বন্টন বিষয়ে কথা বলেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (বলার কথা পানি মন্ত্রীর), অপরাধী ধরার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী (করার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের)। ডুব ছবির প্রদর্শনীর বিষয়ে মন্ত্রনালয়ের আপত্তির নিন্দা করছি।’
প্রসঙ্গত, যৌথ প্রযোজনার প্রিভিউ কমিটি সিনেমাটি অনাপত্তিপত্র স্থগিতের পর ‘ডুব’ নিয়ে নতুন বিতর্কের মধ্যে রবিবার নগরীর ধানমন্ডির বাসা ‘দখিনা হাওয়া’য় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন শাওন।
এ সময় পরিচালক ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘ডুব’ সিনেমায় হুমায়ূন আহমেদের জীবনের স্পর্শকাতর ঘটনা নেই, তা নির্মাতা স্পষ্টভাবে কোনো বক্তব্যে জানাননি। হুমায়ূন আহমেদের জীবনের স্পর্শকাতর ঘটনা থাকার যে আশঙ্কা আমি করেছিলাম তা সত্য বলেই মনে হচ্ছে। তবে আমি একজন নির্মাতা হিসেবে চাই না কোনো সিনেমা নিষিদ্ধ হোক। ‘ডুব’ সিনেমাটি বিতর্কিত অংশগুলো সংশোধন করে মুক্তি পেতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, আমি তখনই সন্দিহান হয়ে উঠি যখন দেখি একই লোক বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কথা বলছেন। এ কারণেই আমি আমার আশঙ্কার কথা জানিয়ে সেন্সরবোর্ডকে চিঠি দিয়েছি।’
যদি তারা হুমায়ূূনের জীবনী নিয়েই ছবি নির্মাণ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তার পরিবারের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন মেহের আফরোজ শাওন।
যৌথ চলচ্চিত্রের নীতিমালা মেনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রিভিউ কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয় সিনেমাটি। প্রিভিউ শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক অনাপত্তিপত্রের মাধ্যমে ছাড় দেয় কমিটি। কিন্তু তার এক দিন পরই ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় এক আদেশে অনাপত্তিপত্রটি স্থগিত করা হয়।
সর্বশেষ এ বিতর্ক আবার চাউর হয়ে ওঠে ‘ডুব’ বন্ধে সেন্সরবোর্ডে মেহের আফরোজ শাওনের চিঠি পাঠানোকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে জমা হওয়ার আগেই বোর্ডের কাছে একটি চিঠি পাঠান শওন।
ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মারফত জানতে পারি ‘ডুব’ সিনেমা জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনী অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। এতে পরিবারের কারো অনুমতি নেয়া হয়নি। তাই বিষয়টি সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষের নজরে নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
‘ডুব’ সিনেমার শুটিং অনেক আগেই শেষ হয়েছে। মুক্তির জন্য সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। এমন অবস্থায় গত বছরের ৪ নভেম্বর ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক ‘হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে ইরফান? কিন্তু এত লুকোছাপা কেন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি খবরে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এরপর থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে ‘ডুব’ সিনেমাটি হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক।
‘ডুব’ সিনেমার ইংরেজি নাম ‘নো বেড অব রোজেস’। এতে ইরফান খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। এর মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশের কোনো সিনেমায় অভিনয় করলেন ইরফান খান। এতে আরো অভিনয় করেছেন পার্ণো মিত্র, রোকেয়া প্রাচী, ব্রাত্য বসু ও নাদের চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের ছোট কন্যা শিলা আহমেদকে বিয়ে করেন।

Similar Articles

Leave a Reply

Top