You are here
Home > বিনোদন > “জগতে সকল কিছুর মালকিন হওয়ার চেষ্টা করা বোকামি”..‘ডুব’ নিয়ে নির্মাতা ফারুকী.

“জগতে সকল কিছুর মালকিন হওয়ার চেষ্টা করা বোকামি”..‘ডুব’ নিয়ে নির্মাতা ফারুকী.

রোববার ফেইসবুকে ফারুকী বলেছেন, ‘ আমাদের তো ছবি দেখাইতে কোনো ভয় নাই। হুমায়ূন ভক্তদেরও নিশ্চয়ই ছবি দেখতে ভয় নাই। তবে ভয়টা কার? কেনো?

‘ডুব’ নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ফারুকী বলেছেন, ‘সিনেমা সকল আইন কানুন মেনে দর্শকের জন্য বানানো হইছে তারা দেখবেই । এবং এই বৈশাখেই দেখবে’।

বরেণ্য লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের ‘ডুব’ নিয়ে আগ বাড়িয়ে অভিযোগে স্পষ্টতই বিরক্ত ফারুকী আরও বলেছেন, ‘কিন্তু এখন তো ছবিই তৈরি। আনন্দ অথবা বেদনার বাজারে বায়োপিক বলা হইছে কি হয় নাই সেটা কষ্ট করে খোঁজার দরকার কি? ছবিতেই তো উত্তর আছে। ছবিটা জাভেদ হাসান, সাবেরী, মায়া, এবং নিতুর । ডিসক্লেমারে পরিষ্কার বলা হয়েছে, এটা একটা ফিকশনাল স্টোরি। এর সাথে জীবিত অথবা মৃত কারো কোনো সম্পর্ক নাই’।

ভারতীয় বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজারের ‘ডুব’ বিষয়ক সাংবাদিকতা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে আনন্দবাজারের আগেও একটা বিখ্যাত ইংরেজী পত্রিকার একজন সাংবাদিক আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের দিকে এই গুজব বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেন। তখন উনার সাথে প্রায় ঘন্টাখানেক আকুতি মিনতি ঝগড়া করে তাঁকে এই রিপোর্ট করা থেকে বিরত রাখি। কিন্তু আনন্দবাজারে কেনো গুজব গেলো, এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, ছবির তো একটা প্রযোজক আছে কোলকাতায়, নাকি? সব কিছু কি আমার কথা মতো চলবে? তার পরেও অফিসিয়ালি আমার বক্তব্য কি সেটা আনন্দবাজারকেও বলা হয়েছে যে, এটা বায়োপিক না। এবং সেটাই ছাপা হইছে’।

হুমায়ুন আহমেদ কিংবা তার শেষবয়সের স্ত্রী শাওনকে ‘ডুব’ চলচ্চিত্রে হেয় করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে নির্মাতা ফারুকী লিখেছেন, ‘আর এতে কাউকে ছোটো করা হইছে না বড় করা হইছে সেটা তো ছবি দেখলেই বোঝা যাবে। দর্শকরা যার যার বিচার বুদ্ধি খাটিয়েই বুঝতে পারবে। জীবনের জটিল অংক, অসহায়ত্ব এই সবে অবগাহন করার মতো ম্যাচুরিটি এবং সেন্সিবিলিটি আমাদের দর্শকদের আছে। লেট দেম ওয়াচ এন্ড ফিল’।

হুমায়ুন আহমেদকে ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ বানানোর চেষ্টা চলছে বলেও ফারুকী সাবধান করে দেন। তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটা কথা, হুমায়ূন কারো স্বামী হইতে পারেন, বাবা হইতে পারেন, কিন্তু হুমায়ূন নামে যে বিশাল আকাশ আমাদের ঘিরে রাখছে, এইটার মালিক কেউ না। জগতে সকল কিছুর মালকিন হওয়ার চেষ্টা করা বোকামি’।

‘ডুব’ চলচ্চিত্র নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর লেখালেখি নিয়েও মন্তব্য করেন ফারুকী। তিনি লিখেন, ‘ আমার ছবির বাইরে একটা অপ্রাসঙিক আলোচনা করি। আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো দেখলে মনে হয় হুমায়ূন আহমেদের জীবন শুরু হইছে পঞ্চাশ বছর বয়স থেকে । তার কোনো অতীত নাই। আগের কোনো স্মৃতি নাই। ভাইরে, পঞ্চাশের পরে যেমন তার একটা জীবন আছে, পঞ্চাশের আগেও একটা আছে। এই স্মৃতিমোচন প্রকল্পের অংশীদার হওয়াটা ঠিক না মনে হয়’।

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সেন্সরে থাকা চলচ্চিত্র ‘ডুব’-এর ছাড়পত্রের বিষয়ে আপত্তি করছেন অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। রবিবার শাওন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘গত বছরের শেষ দিকে ভারতের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’-এর কাছ থেকে প্রথম ডুব ছবিটির পটভূমি সম্পর্কে জানতে পারি। আমাকে জানানো হয় ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের জীবনকে ঘিরে এবং হুমায়ূন পরিবারের কিছু সদস্যের চরিত্রও ছবিটিতে উঠে এসেছে যার মধ্যে আমিও আছি। খবরটি আমাকে বিস্মিত করে’।

Similar Articles

Leave a Reply

Top