You are here
Home > থানার খবর > স্কুল ছাত্রীদের দিয়ে মাথার চুল ও উকুন বাছান: প্রধান শিক্ষিকা: ডুমুরিয়া উপজেলা

স্কুল ছাত্রীদের দিয়ে মাথার চুল ও উকুন বাছান: প্রধান শিক্ষিকা: ডুমুরিয়া উপজেলা

Fallback Image

স্কুল কমিটিকে না জানিয়ে পুরাতন বই ও খাতাপত্র বিক্রি করা, স্কুল ছাত্রীদের দিয়ে মাথার চুল ও উকুন বাছানো এবং স্কুলের সহকারি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহনানাবিধ দুর্নীতি অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পূর্ব বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা’র বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পূর্ব বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলতি মাসের প্রথমার্ধে স্কুলে রক্ষিত অব্যবহৃত পুরাতন বইপত্র, স্কুলের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ রেজিষ্টার খাতা ও ফাইলপত্র কমিটিকে পাশ কাটিয়ে জনৈক আব্দুর রহিমের কাছে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গত ২১ ফেব্রুয়ারি এক সভায় প্রধান শিক্ষকের এহেন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়ে নিন্দা জ্ঞাপন ও বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষে অবহিত করানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এছাড়া স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সাধারণ অভিভাবকবৃন্দের গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক লিখিত অভিযোগে বলেন, প্রধান শিক্ষক স্কুলে অনিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। অধিকাংশ দিনে তিনি দেরিতে স্কুলে আসেন এবং স্কুল ছুটির আগেই স্কুল ত্যাগ করে চলে যান। এ ছাড়া তিনি নানাবিধ অজুহাত দেখিয়ে স্কুলে হাজিরা দিয়ে বাইরে সময় কাটান। এছাড়া প্রধান শিক্ষক স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের উপর কারণে অকারণে চড়াও হয়ে তাদের উপর ভয়ভীতি দেখানোসহ অসৈজন্যমূলক আচারণ করেন। তা ছাড়া প্রতিনিয়ত স্কুল ছাত্রীদের দিয়ে নিজ আসনে বসে মাথার চুল ও উকুন বাছিয়ে থাকেন।
অপর এক লিখিত অভিযোগে স্কুলের ৫ জন সহকারি শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আরা’ স্কুলে হাজির হয়েই কারণে অকারণে অমার্জিত কটুকথা, ঝগড়া ও অশালীন ভাষায় গালি গালাজ করেই যেন সমস্ত দিন কাটান। প্রধান শিক্ষক একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মত প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তিনি কথায় কথায় সহকারি শিক্ষদের বলেন,”তুমি অন্যত্র চলে যাও, তুমি অযোগ্য, তুমি চাকরি ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে শায়েস্তা করে ছাড়বো” ইত্যাদি কথা বলে হুমকি ধামকি দেন।
প্রধান শিক্ষকের এহেন রুঢ় আচারণে প্রতিনিয়ত তাদের আতংকগ্রস্ত মানসিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অসম্ভব হয়ে দাঁড়ানো এবং নিজেদের আত্মসম্মান হারিয়ে তার অধীনে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তারা অভিযোগে বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেবাশীষ মণ্ডল জানান, প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা এক বছরেরও বেশি আগে স্কুলে যোগ দিয়েছেন। এর পর তার বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারীমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সাধারণ অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষকদের কাছে থেকে শুনতে শুনতে আমরা অতিষ্ঠ। তিনি স্কুলে যোগদানের পর থেকে স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ দারুণভাবে ব্যাহত হতে চলেছে। আমরা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন; কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে বলে জানা নেই। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জি এম আলমগীর কবির বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Similar Articles

Leave a Reply

Top