You are here
Home > জেলার খবর > ঢাকা > নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল সিকিউরিটি গার্ড

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল সিকিউরিটি গার্ড

রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় হামলা ও ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে।  জানা গেছে, গতকাল(বুধবার) রাত সাড়ে ১০টায় বসুন্ধার আবাসিক এলাকায় স্থাপিত অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনের গেটে মোটরসাইকেল রাখার কারণে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শাহরিয়ার হাসনাত তপু নামের এক ছাত্রের সঙ্গে বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার সিকিউরিটি গার্ডের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে সিকিউরিটি গার্ডের কয়েকজন সদস্য অপুকে পেটাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য অপু দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলে তাকে রাস্তায় ফেলে সিকিউরিটি গার্ডরা তাদের হাতে থাকা বন্দুকের বাট দিয়ে এলোপাথাড়ী মারতে শুরু করে।

এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন এসে পরিস্থিতি নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা করে। পরে সেখানে থাকা অপুর বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পর পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্ররা সঙ্গবদ্ধ হয়ে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সামনে বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ভেতরে গেলে পুলিশ ও এলাকার স্থানীয়রা মিলে তাদের ধাওয়া করে। এতে ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনের যায়গাগুলো ভাংচুর শুরু করে। এতে একদল ছাত্র হাসপাতালের গেটটি ভেঙে ফেলে বলে জানা গেছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সাজিদুল করিম দিপু নামের এক ছাত্র জানান, প্রায় সময় এলাকার সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে বাইক রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। যদিও জায়গাটা বাইক স্ট্যান্ডের জন্যই রাখা। আজকে তপু সেখানে বাইক রাখতে গেলে গার্ডেরা তাকে বেধড়ক পেটায়। আহত অবস্থায় আমাদের কিছু ছাত্র তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ এখনও ওই যায়গায় অবস্থান করছে। কিন্তু স্থানীয়দের সাথে মিলে তারা ছাত্রদের উপর হামলা করছে।

রাওকাত নুর প্রিয়তা নামের এক ছাত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, আজকে ১০.৩০টার দিকে আমরা এপোলো গেইট দিয়ে আসার সময় একটা সামান্য বাইক রাখা নিয়ে নর্থ সাউথের CDC ক্লাবের তপু নামের একটা ছেলেকে বসুন্ধরা সিকিউরিটির কমপক্ষে ১৫-২০ জন একসাথে মিলে বন্ধুকের বাট দিয়ে,বুট দিয়ে যাচ্ছেতাই ভাবে মারছে।মারার একপর্যায়ে কয়েকজন গার্ড ‘গুলি কর,গুলি কর’বলে চিৎকার করতেসিলো।এর কিছুক্ষন পরেই পুলিশ চলে আসে আর স্টুডেন্টরা জড়ো হয়ে যাওয়ায় গার্ডরা বাইকসহ চুরি করে পালিয়ে যায়। এরপর কথিত এক বড়ভাই এবং পুলিশ এসে সমস্যা সমাধানের নামে কিছুক্ষন সময় নস্ট করে।

এর কিছুক্ষন পরই বসুন্ধরার নিজস্ব ‘ঝামেলা পার্টি’র আগমন হয় আর পুলিশ ও তার সুর চেঞ্জ করে ফেলে।লোকাল লোকগুলো আর পুলিশ মিলে সব স্টুডেন্টদের এলোপাথাড়ি মার দেওয়া শুরু করে।স্টুডেন্টরা ভয় পেয়ে চলে যাওয়ার পর লোকাল লোক গুলা বলা শুরু করে যে ‘অস্ত্র কি পকেটে নিয়া ঘোরার জন্য কিনসোত!!কয়েকটারে ফালাইয়া দিলে সব ঠান্ডা হইয়া যাইতো সেই কখন” আর প্রথা অনুযায়ী শুরু হয় পুলিশের ধড়পাকড়।একটা স্টুডেন্ট ভিডিও করা শুরু করায় তার মোবাইল লোকাল মানুষগুলা নিয়ে নেয় আর পুলিশ অস্ত্র মামলায় তাকে আসামি করার হুমকি দেয়।লাস্ট খবর হচ্ছে ছেলেটা এপোলোতে ইমারজেন্সি তে ভর্তি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনার পর এখনও পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়নি। র‍্যাব, পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে সেখানকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে উপস্থিত পুলিশের কোন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এদিকে হাসপাতালে থাকা শাহরিয়ার হাসনাত তপুর বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেছে, তপুর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোন ইনজুরি ধরা পড়েনি।

Similar Articles

Leave a Reply

Top