You are here
Home > জেলার খবর > ময়মনসিংহ > ফুলবাড়ীয়ায় মধ্যযুগীয় কায়দায় ভিক্ষুক নির্যাতন,এক সপ্তাহেও হয়নি মামলা

ফুলবাড়ীয়ায় মধ্যযুগীয় কায়দায় ভিক্ষুক নির্যাতন,এক সপ্তাহেও হয়নি মামলা

য়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার হাতিলেইটের দিঘলচালা গ্রামের আছিরন নেছা। বয়স প্রায় ৭০। স্বামী নেই। জায়গা জমি না থাকায় অন্যের বাড়িতে বসবাস করেন। এক মাত্র উপার্জন তার ভিক্ষাবৃত্তি। প্রতিদিনের মতো গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার অসহায় বৃদ্ধা ভিক্ষা করতে যান টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার গারোবাজারে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় গারোবাজারের এক ব্যবসায়ী হারুনের বাড়িতে খাবার চান। বাড়ি মালিক দয়াপরবশ হয়ে খাবার খেতে দেন। খাবার শেষে ভিক্ষা করতে চলে যান বাজারে।
পরে মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে আছিরন নেছাকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় বাছেদ খানের বাড়িতে। বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে পেটানো হয় তাকে। এক পর্যায়ে ভিক্ষের চাল রেখে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয় তাকে। সন্ধ্যার আগে আবারো তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে বাজারের নাইট গার্ড আবদুল হাকিম। বাড়ি থেকে ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে আসার সময় চালানো হয় নির্যাতন। ভেঙে ফেলা হয় হাতের তিনটি আঙ্গুল। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ঘটনাস্থল টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় বললেও ওই থানার ওসির দাবি তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এদিকে নির্যাতনের শিকার ভিক্ষুক আছিরন নেছা ফুলবাড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত শনিবার বাড়ি চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
আছিরন বাড়িতে চলে আসার পর সন্ধ্যার আগে গারোবাজারের নাইটগার্ড আ. হাকিমসহ জুলহাস, সুমন ও কামরুল বৃদ্ধাকে ধরে রিকশা ভ্যানে করে গারোবাজারে নেয়। পথে তাকে বেধরক মারপিট করা হয়। এ সময় তার দুই হাতের ৩টি আঙ্গুল ভেঙে যায়। পরে ভিক্ষুক মহিলাকে গারোবাজারের বাজার কমিটির অফিস কক্ষে আটক করে রাখা হয়। রাত ৮টার দিকে আছিরন ও তার মেয়ে রমিছা খাতুনকে অফিস কক্ষে রেখে জোর করে ধরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়।
বাড়িতে আসার পর বৃদ্ধা আছিরন শরীরের ব্যথায় ছটফট ও চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘুমাতে পারেনি। পরদিন সোমবার ভিক্ষুক মহিলাকে স্থানীয়রা ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃদ্ধ ভিক্ষুকের আত্মীয় স্বজনদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক সালিশ হয়েছে।
ভিক্ষুক আছিরন নেছা বলেন, ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে হারুনের বাসায় ভাত চাই, কয়টা ভাত দেয় আমাকে, রান্নাঘরে বসে খেয়ে চলে আসি। এরপর মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে বাজার থেকে ধরে নিয়ে প্রথমে মারপিট করে, এরপর আবারো নাইটগার্ড আ. হাকিমসহ জুলহাস, সুমন ও কামরুল আমাকে বাড়ি থেকে ধরে গারোবাজারে নিয়ে লাঠিপেটা করে। এতে আমার হাতের ৩টি আঙ্গুল ভেঙে যায়। আমার চিৎকারে অনেকেই কান্না করেছে, তারপরও ওদের মনে কোনো দয়া মায়া হয়নি। আমি গরিব মানুষ, বাড়িঘর নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর আ. আজিজের বাড়িতে থেকে ভিক্ষে করে আমার দিন চলে। আমি কোনো দিন চুরি করিনি। ভিক্ষে করে খাই। মোবাইল চুরির মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমাকে এক প্রকার উলঙ্গ করে পেটানো হয়।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজিব জানান, নির্যাতিতার বাড়ি ফুলবাড়ীয়া হলেও ঘটনাস্থল মধুপুরে হওয়ায় তিনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। মামলা করতে হলে তাকে ঘটনাস্থল এলাকার থানায় অভিযোগ করতে হবে। তবে মধুপুর থানা এলাকার এমন ঘটনার কোনো তথ্য জানা নেই বলে জানান মধুপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম।

Similar Articles

Leave a Reply

Top