You are here
Home > খেলা > ইতিহাসে মুশফিকরা নিজেদের নামটি খোদাই করে রাখতে পারে কিনা আজ তারই অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ইতিহাসে মুশফিকরা নিজেদের নামটি খোদাই করে রাখতে পারে কিনা আজ তারই অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ততম টেস্টে বাংলাদেশের সামনে আজ ইতিহাস গড়ার হাতছানি। কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে গতকাল চতুর্থ দিনেও কর্তৃত্ব করেছেন মুশফিক ও তার সহযোদ্ধারা। প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিক শ্রীলংকার দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৮। শেষ ২ উইকেট হাতে রেখে ১৩৯ রানের লিড স্বাগতিকদের। পঞ্চম ও শেষ দিনে মাঠে নামার আগে এর চেয়ে সহজ সমীকরণ খুব কমই পেয়েছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটের অন্য দলের জন্য যেটা সহজ সমীকরণ, সেটা বাংলাদেশের জন্যও সহজ হবে, এতটা নির্ভার হওয়াটাও কঠিন। পঞ্চম ও শেষ দিনে তালগোল পাকিয়ে ফেলাটাকে প্রায় নিয়মিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। তিল তিল করে জমানো সঞ্চয় একেবারে শেষ সময়ে প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক ঘটনারই সাক্ষী ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে এখন যে জায়গায় মুশফিকরা, সেখান থেকে হারাটাই কঠিন।

স্বাগতিকদের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের সবাই সাজঘরে। উইকেটে আছেন লংকান দলের টেল এন্ডাররা। তবে গতকাল শেষ বিকালে কিন্তু নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে লড়াই করে গেছেন স্বাগতিক দলের দুই টেল এন্ডার দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরাঙ্গা লাকমল। প্রান্ত আগলে রাখা দিমুথ করুণারত্নে ও অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ আউট হওয়ার পরও এ দুজন যেভাবে বাংলাদেশের বোলারদের রুখে দিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়। দিনের শেষ ৫২ বলের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩০ রান যোগ করেন দুজন। ১২৬ বল খেলে ২৬ রানে অপরাজিত আছেন পেরেরা। তার সঙ্গী লাকমল ১৭ বল মোকাবেলায় খেলছেন ১৬ রান নিয়ে। তবে তাতেও বাংলাদেশের কর্তৃত্বে ছেদ পড়েনি।

গতকাল দিনটিকে বাংলাদেশের করে রাখেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ও তিন স্পিনার সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। দিনের শুরুতে প্রথম আঘাত হানেন মিরাজ। আগের দিনের বিনা উইকেটে ৫৪ নিয়ে খেলতে নেমে স্কোরবোর্ডে ৩ রান জমা পড়তেই বিদায় নেন উপুল থারাঙ্গা। তাকে সরাসরি বোল্ড করেন মিরাজ। ২৬ রান করেন থারাঙ্গা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ভালোই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন করুণারত্নে ও কুশল মেন্ডিস। জুটিতে ৮৬ রান যোগ করেন দুজন। লংকানদের এই সুখস্মৃতি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মুস্তাফিজ। মেন্ডিসকে কট বিহাইন্ড আউট করে প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন এই বাঁহাতি। ৩৬ রান করেন মেন্ডিস। ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান দিনেশ চান্দিমালের (৫) বিদায়ঘণ্টা বাজান মুস্তাফিজ। পর পরই আসেলা গুণারত্নেকে (৭) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সাকিব।

এ সময় ওপেনার করুণারত্নে প্রান্ত আগলে রেখেও পারেননি ধস সামলাতে। ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে শূন্য হাতে ফেরান মুস্তাফিজ। তিনিও ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। মুস্তাফিজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিকারে নামেন সাকিবও। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন নিরোশান ডিকবেলাকে (৫)। এই ক্যাচটি তালুবন্দি করে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটরক্ষক হিসেবে ১০০ ডিসমিসালের অধিকারী হন মুশফিক। স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে তখন ১৯০/৬। এ পর্যায়ে টাইগারদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দেখা দেয় করুণারত্নে। টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চম সেঞ্চুরি পাওয়া করুণারত্নের সংগ্রামী ইনিংসটির পতন ঘটান সাকিব। ব্যক্তিগত ১২৬ রানের মাথায় স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন এ ওপেনার। এ পর্যায়ে মনে হচ্ছিল চতুর্থ দিনেই ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে যাবে মুশফিক ব্রিগেড। কিন্তু সেটি হতে দেননি পেরেরা। তাইজুল স্বাগতিক অধিনায়ক হেরাথকে ফিরিয়ে দেয়ার পর লাকমলকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান পেরেরা।

আজ পঞ্চম ও শেষ দিনে লংকানরা কত রানের টার্গেট দেবে, তার ওপর নির্ভর করছে এ ম্যাচের ভাগ্য। শেষ ২ উইকেটে যদি আরো ৫০ রানও যোগ হয়, সেক্ষেত্রেও টার্গেট থাকবে ২০০ রানের নিচে। যদিও পঞ্চম দিনের উইকেট, তার পরও ২০০ রানের নিচে টার্গেটে পৌঁছানোটা খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয় মুশফিকদের।
পি সারা ওভালে আজ শেষ দিনে শততম টেস্ট ইতিহাসকে নিজেদের রঙে রাঙানোর সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান এই তিন দেশ কেবল জয়ের মুখ দেখেছে শততম টেস্টে। ইতিহাসে চতুর্থ জয়ী হিসেবে মুশফিকরা নিজেদের নামটি খোদাই করে রাখতে পারে কিনা আজ তারই অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

Similar Articles

Leave a Reply

Top