You are here
Home > বিনোদন > তিন সন্তানের জননী সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা

তিন সন্তানের জননী সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়কের নাম সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবন তার। সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে পদার্পন করেন সালমান শাহ। প্রথম ছবিতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে।

একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন। সবারই স্বপ্ন ছিল যে এভাবেই বুঝি সালমান শাহ তার দর্শকদের হিট ছবি উপহার দিয়ে যাবেন কিন্তু সে স্বপ্ন সবার পূরণ হল না। প্রিয় নায়কের অকাল মৃত্যু সবার স্বপ্নকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়েছে এবং তার মৃত্যু রহস্যটি এখনো অন্তরালে রয়েছে।

অনেকেই জানতে চান কী করেন, কেমন আছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা? ফেসবুকে চলচ্চিত্র বিষয়ক আইডি ও পেজে সালমান ভক্তরা সালমান ও সামিরাকে নিয়ে নানা স্ট্যাটাস ও ছবি পোস্ট করেন। সেসব পোস্টে দাবি করা হয়, ঢালিউডের শাহরুখ-গৌরী হতে পারতেন সালমান-সামিরা। কেউ কেউ সামিরার প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা হক এখন থাইল্যান্ড প্রবাসী। সালমানের মৃত্যুর কয়েক বছর পরই তিনি বিয়ে করেছিলেন মুস্তাক ওয়াইজ নামে এক ব্যবসায়ীকে। তাকে নিয়ে থাইল্যান্ডে পেতেছেন নতুন সংসার। বেশ সুখেই আছেন তিনি জৌলুসের জীবন নিয়ে। সেই সংসারে তিন সন্তানের জননী সামিরা। বড় ছেলে ও ছোট দুই মেয়ে।

সেখানে সামিরার ছোট দুই বোন ফাহরিয়া হক ও হুনায়জা শেখ তাদের স্বামী সন্তান নিয়ে বাস করেন। জানা গেছে, বাংলাদেশে খুব একটা আসেন না। আসলেও এড়িয়ে চলেন মিডিয়া বা কোলাহল। একান্তই নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করেন। সালমানের মৃত্যুর পর থেকেই নিজেকে সবকিছুর আড়ালে নিয়ে যান তিনি।

গেল বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা বেশ কিছু গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘সালমানের মৃত্যুতে আর সবার মতোই আঘাত পেয়েছিল সামিরা। সবাই নায়ক হারানোর ব্যথায় কেঁদেছিল। আর আমার মেয়ে কেঁদেছিল বিধবা হওয়ার যন্ত্রণায়। সেই কষ্ট কেউ বোঝার আগেই তাকে নিয়ে নানা রকম অপবাদ ছড়ানো হলো। যাক, সবার দোয়ায় সামিরা এখন ভালো আছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে তার সুখের সংসার।’

সেই মন্তব্যে সামিরার বাবা আরও জানিয়েছেন চমকপ্রদ এক তথ্য। সালমানের মৃত্যুদিনে নাকি কারও সঙ্গেই কোনো কথা বলেন না সামিরা। নিজের মতো করে চুপাচাপ থাকেন। সালমানের মৃত্যু তিনিও মেনে নিতে পারেননি। মানতে পারেন না ‘সালমানের সাবেক স্ত্রী’ শব্দটিও।

এদিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরী সালমানের মৃত্যুর জন্য সামিরাকে দায়ী করে একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। তাই সালমানের পরিবারের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ করেন না সামিরা।

সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করা সালমান শাহ মাত্র ২১ বছর বয়সে তার মা নীলা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর মেয়ে সামিরাকে বিয়ে করেন। সেই সময় আলোচিত দম্পতি ছিলেন সালমান-সামিরা।

সামিরার বাবা জাতীয় দলের সাবেক উইকেটকিপার-অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা এবং মা থাইল্যান্ডের নাগরিক চট্টগ্রামের বিউটিপার্লার ব্যবসায়ী লুসি।

Similar Articles

Leave a Reply

Top