You are here
Home > শিল্প-সাহিত্য > নজরুলের ‘বিদ্রোহী’

নজরুলের ‘বিদ্রোহী’

বাংলা কবিতার এক বিস্ময়কর ব্যতিক্রম নজরুলের ‘বিদ্রোহী’, ১৯২২ সালে প্রকাশিত যে-কবিতার নববই বছর পূর্ণ হচ্ছে এ-বছর। ‘বিদ্রোহী’র কোনো পূর্বসূরি নেই; বাংলা কবিতার ঐতিহ্যের মধ্যে এ-কবিতার বীজ নিহিত নেই; ‘বিদ্রোহী’র সার্থক উত্তরাধিকারীও নেই। একক মহিমায়, অননুকরণযোগ্য দৃঢ়তায় একটি মনোলিথের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে কবিতাটি। ‘বিদ্রোহী’কে নিয়ে প্যারোডি করেছেন গোলাম-মোস্তফাদি গৌণ কবিরা, বিদ্রূপ করেছেন শনিবারের চিঠির, নজরুলের নিজের ভাষায়, প্রেয়সী তথা সজনীর দল। (পৃ ১৩৯) (পাঠান্তরে ১৪১) পঙ্ক্তির এই হিমশৈল এক অর্থে নজরুল মানসের একটি শনাক্তিচিহ্ন, অন্য অর্থে বাংলা কবিতায় ওয়ার্ডসওয়ার্থ-কথিত ‘শক্তিমন্ত আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের প্লাবী প্রকাশে’র শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন হয়ে রয়েছে। এর স্রষ্টা ধূমকেতুর মতো পুচ্ছে আগুন নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন বাংলা কবিতার অঙ্গনে এবং তাঁর আবেগ ও দ্রোহের অতিরেক তাঁকে এক দশকেই ভেতর থেকে পুড়িয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছিল – ১৯৩০ সালের পর নজরুলের আত্ম-উৎসারণ
মূলত প্রেমগীতিকার কারুণ্যে। রয়ে গেছে প্রথম-পার্বিক নজরুলের দ্রোহীচেতনার উত্তুঙ্গ প্রকাশ এই ‘বিদ্রোহী’সহ অগ্নিবীণার এবং বিষের বাঁশির কিছু কবিতায়। যে-শিখর তিনি স্পর্শ করেছিলেন ১৯২২ সালের কোনো এক রাতে, তা যেন অলৌকিক মনে হয় এখন।
বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সমালোচক নানাবিধ দিক থেকে এর মূল্যমান, প্রভাব, রাজনৈতিক তাৎপর্য, এর ভাষাবিন্যাস, ছন্দ, বিষয়গৌরব নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমি তার পুনরাবৃত্তি করব না। আমি বরং অন্য দুটি প্রসঙ্গে নিজেকে ব্যাপৃত করব। তার একটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে একটি বিদেশি ও একটি বহুখ্যাত বাংলা কবিতার কিঞ্চিৎ তুলনাত্মক আলোচনা। অন্যটি হলো, নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ওয়াল্ট হুইটম্যানের প্রভাব কিংবা তাঁদের সদৃশতার বহুকথিত প্রসঙ্গ।

Similar Articles

Leave a Reply

Top