You are here
Home > রাজনীতি > যৌতুক-বাল্যবিবাহ বন্ধ না হওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা : হাসানুল হক ইনু

যৌতুক-বাল্যবিবাহ বন্ধ না হওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা : হাসানুল হক ইনু

যৌতুক-বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নির্মূল না হওয়াকে রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যান উনারা যৌতুক, বাল্যবিয়ে নিয়ে কথা বলেন না। এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনের একটা ব্যর্থতা। মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যানরা অনেক বক্তব্যই দেন; ময়দানে গেলে তো কত কথা বলেন। কিন্তু যৌতুক, বাল্যবিবাহ নিয়ে কথা বলেন না। কিন্তু এ সমস্যাগুলো দূর করতে এমপিদের, জনপ্রতিনিধিদের, ইউএনও, টিচারদের কথা বলতে হবে; সবার সমন্বয়ে একটি পূর্ণ ক্যাম্পেইন করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) জনসংখ্যা বিষয়ক প্রকল্প ‘হ্যালো আই এম’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী যারা আছেন, যারা পলিটিশিয়ান; সবাই মিলে একটি পলিটিক্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন করতে হবে এসব সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমরা মনে করি এসব কয়েকটি এনজিও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যকর্মী ও কিছু নারী সংগঠনের কাজ। অথচ এগুলো সামাজিক সমস্যা, যা দূর করতে পুরো সমাজকেই কাজ করতে হবে।’

এ সময় যৌতুক ও বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দেন মন্ত্রী।
ইনু বলেন, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে প্রচারণা দরকার। কারণ মাধ্যমিক থেকেই মেয়েদের শরীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এ জন্য যেসব মন্ত্রণালয় আছে, তাদের উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সংক্রান্ত প্রচারণা বাধ্যতামূলক করা। যাতে ক্লাসের আগে জাতীয় সঙ্গীতের পরই শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক উপদেশগুলো দিয়ে দেন। কিন্তু, দুর্ভাগ্য হলো কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কাজগুলো করা হয় না।

নিজের নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এলাকায় গেলে প্রতিষ্ঠানগুলো এ কাজগুলো করে। কিন্তু চলে আসলে করে না, সেজন্যই এসব বাধ্যতামূলক করা উচিত।’

বাল্যবিবাহ বন্ধে নিজের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘আমি বলতে গেলে আমার এলাকার নির্বাহী অফিসারকে বাধ্য করেছি; যেখানে বাল্যবিবাহের খবর আসবে তা বন্ধ করে দিতে। যদি সেই কন্যার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তার জন্য পড়ার ব্যবস্থা করে দিতে। যৌতুকের খবর পেলে ব্যবস্থা করতে।’

বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী প্রচারণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইনু বলেন, আমাদের সমস্যা হলো, আমরা যৌনক্রিয়া নিয়ে কথা বলি না। কিন্তু এসব জানাতে হবে, জানতে হবে। এসব জানা প্রত্যেক মেয়ের যৌন অধিকার ও প্রজনন অধিকারের অধিকারের মধ্যে পড়ে। কারণ সে যদি না জানে, তাহলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, বিপদে পড়ে।

তিনি বলেন, আমরা বলি ১৮ এর আগে বিয়ে নয়, ২০ এর আগে সন্তান নয়, ৩৫ এর পর সন্তান নয়; এসব কেন বলি? এর কারণগুলো যুক্তি দিয়ে, বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে হবে। এজন্য প্রচার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। না হলে যে মা রুগ্ন থাকবে, তার নবজাতক অসুস্থ হবে। কিন্তু আমরা তো অসুস্থ সন্তান নিবো না, সমাজ নিবে না; আমরা একটি সুস্থ জাতি চাই।

ইনু বলেন, একজন মেয়ের কার সাথে বিয়ে হবে, কখন সে সন্তান নিবে; এটির সিদ্ধান্ত নেওয়া তার মানবাধিকার। এজন্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ সময় মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও প্রচারণার বার্তাগুলো পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইনু।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু মেয়েদের না, ছেলেদেরও এসব বলতে হবে। স্বামীকেও বলতে হবে। যাতে তারা স্ত্রীকে বাধ্য না করে। কারণ সমস্যাগুলো তো তারাই করে।

এসময় উদ্বোধন করা ‘হ্যালো আই এম’ প্রকল্প গ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার নেই। বাল্যবিবাহ নিয়ে গবেষণা কেন করতে হবে? এদেশে সর্বত্র বাল্যবিবাহ হয় এটা সবাই জানে। এজন্য টাকা খরচ করে গবেষণার প্রয়োজন নেই। যেটা হলে বেশি কার্যকর হতো সেটি হলো সবার হাতে লিফলেট বিতরণ করে বার্তাগুলো পৌঁছে দেওয়া। না হলে এসব প্রজেক্ট করে লাভ নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট, এসব গবেষণার কোনো মূল্যই নাই।

মন্ত্রী এ সময় মীনা কার্টুনের সফলতার উদাহরণ টেনে বলেন, ডিফরেন্ট ও প্র্যাকটিক্যাল ক্যাম্পেইন করতে হবে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে।

অনুষ্ঠানে পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দুঃস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক দিবালোক সিংহ, বিবিসি মিডিয়া এ্যাকশনের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড লেস, রুটগার্সের প্রতিনিধি নাটালি কোমেন, আইকেইএ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি নয়না চৌধুরী।

Similar Articles

Leave a Reply

Top