You are here
Home > ইসলাম > গ্রীষ্মের গরমে জাহান্নামের কথা স্মরণ করুন

গ্রীষ্মের গরমে জাহান্নামের কথা স্মরণ করুন

দুনিয়া আখেরাতের দর্পণ ও সতীন। দুনিয়ায় যত সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ আছে সবই জান্নাতের সুখ ও স্বাদের জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার সব দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যথা-বেদনা জাহান্নামের শাস্তি ও তার অধিবাসীদের মন্দ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অন্যতম নীতি ছিল দুনিয়ার প্রত্যক্ষ ঘটনা দিয়ে তিনি সাহাবিদের আখেরাতের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের এ আগুন যা লোকরা জ্বালায়, তা জাহান্নামের সত্তর ভাগের একটি ভাগ মাত্র।’

গোনাহ ও পাপকর্ম সবচেয়ে ভারি বোঝা। সুস্থতা সবচেয়ে তৃৃপ্তিকর ও স্বাদের বিষয়। আল্লাহর জিকির দ্বারা হৃদয় কোমল হয়। আল্লাহর কিতাব নিয়ে গভীর চিন্তা করলে অন্তর জীবন্ত হয়। ভালো ও সৎলোকদের সান্নিধ্য সৌভাগ্য নিয়ে আসে। মন্দ লোকদের সংস্পর্শ দুর্ভাগ্য বয়ে আনে।

দুনিয়া আখেরাতের দর্পণ ও সতীন। দুনিয়ায় যত সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ আছে সবই জান্নাতের সুখ ও স্বাদের জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার সব দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যথা-বেদনা জাহান্নামের শাস্তি ও তার অধিবাসীদের মন্দ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অন্যতম নীতি ছিল দুনিয়ার প্রত্যক্ষ ঘটনা দিয়ে তিনি সাহাবিদের আখেরাতের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের এ আগুন যা লোকরা জ্বালায়, তা জাহান্নামের সত্তর ভাগের একটি ভাগ মাত্র।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আগুন তার প্রতিপালকের কাছে অভিযোগ করে বলেছিল, হে প্রতিপালক, আমার এক অংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলেছে। তখন তিনি আগুনকে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন। একটি শীতকালে আরেকটি গ্রীষ্মকালে। আর এর ফলেই তোমরা এমন তীব্রতর গরম দেখতে পাচ্ছ। এমন প্রচ- শীত প্রত্যক্ষ করছ।’ (বোখারি ও মুসলিম)। আল্লাহ মানুষের জ্বালানো আগুন সম্পর্কে বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটাকে আমি উপদেশের স্মারক ও মরুবাসীর জন্য সামগ্রী বানিয়েছি।’ (সূরা ওয়াকিয়া : ৭৩)।

এমনকি জ্বরের তাপও অনেক বড় স্মারক। হাদিসে এসেছে, ‘জ্বর জাহান্নামের একটি হাপর। তাই তোমরা ঠা-া পানি দিয়ে তোমাদের থেকে তা দূরে সরিয়ে রাখ।’ কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, ‘তা জাহান্নাম থেকে মোমিনের অংশ।’ এক জ্ঞানী বলেছেন, ‘জ্বরে আক্রান্ত হলে মোমিনের উচিত আল্লাহর কাছে সেটাকে কাফফারা, পবিত্রতা ও পরিশোধন হিসেবে পাওয়ার আশা করা।’ হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘তারা কালের আবর্তন নিয়ে চিন্তা করতেন। যুগের পরিবর্তন দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। ফলে বিষয়টি তাদের জন্য ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য সৃষ্টি করে দিত। তারা দুনিয়ার যা কিছুই দেখত, তার মাধ্যমেই আল্লাহ কর্তৃক প্রতিশ্রুত আখেরাতের জান্নাতের কথা স্মরণ করত।’

আপনারা এখন গ্রীষ্মকালের দিনগুলোয় বসবাস করছেন। আপনাদের সাধ্যমতো এর তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। স্মরণ করুন ও শিক্ষা গ্রহণ করুন। দ্রুত সৎকর্মের দিকে অগ্রসর হোন। আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘পুনরুত্থান দিবসের জন্য তোমরা এমন একদিন রোজা রাখ, যার উত্তাপ অনেক তীব্র। কবরের অন্ধকারের জন্য রাতের অন্ধকারে দু-রাকাত নামাজ পড়।’ তৃষ্ণা অচিরেই কেটে যাবে। ঘাম ঝরে পড়বে। ইনশাআল্লাহ সওয়াব অর্জন হবে। আল্লাহ পূর্ববর্তীদের প্রতি দয়া করুন। তারা দুপুরের তৃষ্ণায় আফসোস করে বলতেন, ‘আমরা গরমের দিনে রোজা রাখি আরও তীব্রতর গরমের দিনের জন্য।’

গরমের দিনে রোজা রাখার ক্ষেত্রে তাদের আরও বিস্ময়কর বোধগম্যতা তাদের এ কথায় ফুটে ওঠেÑ ‘দ্রব্যমূল্য কম হলে সবাই তা ক্রয় করে।’ তাদের উদ্দেশ্য হলো স্বাভাবিক শীতল ও ঠা-া দিনে রোজা রাখা সবার জন্যই সহজ। তবে গরমের দিনে রোজা রাখতে হলে ধৈর্য ও দুর্ভোগ পোহানোর প্রয়োজন পড়ে। আল্লাহ বলেন, ‘আর সেক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতাকারীরা যেন প্রতিযোগিতা করে।’ (সূরা মুতাফফিফিন : ২৬)।

কেউ কেউ তো গরমকে গনিমত মনে করেছেন। আবু দারদা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলের সঙ্গে এক সফরে আমরা নিজেদের প্রচ- গরমের দিনে দেখতে পেলাম। তীব্র তাপের কারণে মানুষের হাত মাথায় রাখতে হচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ছাড়া এ দিনে কেউ রোজাদার ছিলেন না।’ (ইবনে মাজাহ)।

প্রচণ্ড গরম থাকলেও বাহনে করে যাওয়ার চেয়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাওয়া উত্তম। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, ‘একটি লোক ছিল, আমার জানা মতে তার চেয়ে আর কেউ মসজিদ থেকে এত দূরে থাকত না। তার কোনো নামাজ ভুলেও বাদ যেত না। আমি তাকে বললাম, তুমি যদি একটি গাধা কিনে ফেলতে, তাহলে তীব্র গরমের সময় বা অন্ধকারে তাতে চড়ে আসতে পারতে। তখন সে বলল, মসজিদের কাছে আমার বাড়ি থাক, তাতে আমি আনন্দিত নই। আমি চাই মসজিদের পথে আমার যাওয়া ও আসার সওয়াব লেখা হোক।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমার জন্য এ সবগুলোই একত্র করে দিয়েছেন।’ (মুসলিম)। কষ্ট আলাদা ইবাদতের কিছু নয়, তবে ইবাদত করতে গিয়ে কষ্ট করলে তার সওয়াব পাওয়া যাবে। কষ্ট অনুপাতে সওয়াব হবে।

তীব্র গরম পড়লে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে বাঁচার প্রার্থনা করুন। কেয়ামতের দিন সূর্য এত কাছে চলে এলে তা কীভাবে সহ্য করবেন? সেদিন আমল অনুপাতে ঘামের মধ্যে আপনি কতটুকু ডুবে যাবেন? এখন সূর্যের প্রখরতা থেকে রক্ষা পেতে এত আয়োজন করেন; কিন্তু কেয়ামতের দিন কোন ছায়ার নিচে থাকবেন? পরস্পর যারা একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে তারা সেই সাতটি দলের অন্তর্ভুক্ত হবে, যারা কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ায় আশ্রয় পাবে। কেয়ামতের কঠিন সময়ে সৎলোকরা হাউজে কাউছারের পানি পান করবে। পাপী জাহান্নামি পান করবে গলিত সিসা। আজ আপনি গরমের কারণে হালকা পোশাক পরছেন। কিন্তু তাদের কথা স্মরণ করুন, ‘আগুন দ্বারা তাদের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি।’ (সূরা হজ : ১৯)।

তারা কতই না সৌভাগ্যবান, যারা এমন গরমের সময় আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য ও অন্য ভাইদের জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার প্রার্থনা করে। ভালো কাজ করে। অসহায়, দুর্দশাগ্রস্ত, দরিদ্র, বিতাড়িত, গৃহহীন মানুষের জন্য নানা উপায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। পানি পান করায়। খোঁজখবর রাখে। একটুকরো খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকুন। গ্রীষ্মের তীব্র দাহ আমাদের জাহান্নামের আগুন স্মরণ করিয়ে দিক। জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার শিক্ষা ও তৌফিক লাভ করতে প্রেরণা দিক।

Similar Articles

Leave a Reply

Top