You are here
Home > ক্যাম্পাস > বড় ধরনের বিপর্যয়ে: পরিবহন সমস্যায়: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়!

বড় ধরনের বিপর্যয়ে: পরিবহন সমস্যায়: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়!

সানজিদা সুলতানা:  কোন শিরোনামের সাথে আমরা যতখানি পরিচিত থাকি,তার সামগ্রিক সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে হয়তো ঠিক ততটুকু ওয়াকিবহাল থাকি না। চিন্তার প্রতিফলন কাজের অনুকূলে সহজেই দৃশ্যমান হয়ে উঠে। যার স্বরূপ সুচিন্তার ব্যাপ্তি, বৃহৎ পরিসরে সামগ্রিক রূপায়ন। ফিরে যাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পুরনো শৈশবে,যখন হাটিহাটি করে বেড়ে উঠেছিলো ক্যাম্পাসের শরীরী অস্তিত্ব। ছিলোনা কোন সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। গ্রামের বিভিন পথের অন্দরমহল ঘুরে যেতে হত প্রতিটি বাস কে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব রাস্তার সীমানা জেগে উঠেছে।জেগে উঠেছে অসংখ্য গাছ।রাস্তালোকের দু’পাশে এসব নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের স্বীকারোক্তি মনের অজান্তেই ভেসে বেড়ায়। যারা এর জন্যে প্রতিদিন খেঁটে-মরেন তাদেরকে ধন্যবাদের পর্যায়ে আনলে একেবারেই ছোট করা হবে। কিন্তু এতকিছুর পেছনেও স্বল্প দুঃখবোধ থেকে যায়। আভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা যেন এ সবকিছুকে ম্লান করে দেয়। যখন প্রতিবছর হুরহুর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে চলছে, তখন প্রয়োজনে বাড়ছে না বাসের সংখ্যা। শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করে। সে হিসেবে বাসের সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। যেখানে সিটে করে পঞ্চাশজন যায়,সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা ঝুলে ঝুলে যায় তার চেয়ে ঢের। যেন স্বল্পায়তনে গাদাগাদির সমাহার। অবশিষ্ট থাকেনা নেমে যাওয়ার রাস্তাটুকুও।একেবারে গেইটের সম্মুখ পর্যন্ত। সবচেয়ে অবাক লাগে, যখন একজনের নামার সময় সবাইকে নেমে রাস্তার জায়গাটুকু করে দিতে হয়। যারা নেমে গিয়ে নেমে যাওয়ার রাস্তা করে দেয় তারা আবার স্বস্থানে ফিরে এলেই চলতে শুরু করে বাস।প্রতিবারই পুনরাবৃত্তি ঘটে একই ঘটনার। এই ঘটনাটি শুধু একটি বাসের ক্ষেত্রে নয়। একবারের ঘটনা নয়,নয় একদিনেরও।প্রতিবার,প্রতিদিন, প্রতিটি বাসের, প্রতিটি যাত্রার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার এটি। শুধু কি তাই,প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এভাবে যেতে না পেরে, যেতে হয় বিকল্প বাসে। এদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এভাবে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত থাকেনা। প্রস্তুত না থাকার কারণ হয়তো আর্থিক ব্যাপারটি। এক্ষেত্রে বলতে না পারার ধিদাটুকু থাকাই স্বাভাবিক। শুধু বাসের স্বল্পসংখ্যাই কি এসবের অন্তরায় নয়। যেসব বাস যায় সেগুলোর সময় হচ্ছে প্রতি একঘন্টা কিংবা পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর পর। অনেকের ক্লাস ১২টায় শেষ হলেও, দুইটা কিংবা আড়াইটার বাসের জন্যে অপেক্ষা করতে হয়। এতে যেমন একজন শিক্ষার্থীর সময়ক্ষেপণ হয় তেমনি সময়ক্ষেপন হয় পড়াশোনারও। হিসেব কষলে সমস্যার বহুদূরে ভ্রমন করা যায়। অথচ বহু ঘটনা এসবের অগোচরেই থেকে যায়। যার কিছু আমরা জানি,বাকি সবটুকু থাকে অজানায়। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলদের সমসাময়িক চিন্তা আর অগ্রগামীতাই হয়তো পারে সমস্যা সমাধানে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে।

Similar Articles

Leave a Reply

Top